ঐতিহ্যের সম্মাননা , পর্ব – ১৫

সুপ্রতিক মিত্র : জাগো দুর্গা,জাগো দশপ্রহরণধারিনী

  বাঙালির হৃদয়ের বড় কাছের এই অনুষ্ঠান নিয়ে আজ কিছু এলোমেলো কথা।

সেই ঘর। সেই খাট। সেই টেবিল। এবং সেই রেডিও! আজও আছে। একই রকম। মহালয়ার ভোরে ওই রেডিয়ো খোলা হয়। গোটা বাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে, বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জীর…!’

      মহালয়ার সকালে মহিষাসুরমর্দিনীর কিংবদন্তি রূপকার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর বাড়িতে আজও যেন ফিরে আসে অতীত! রামধন মিত্র স্ট্রীটের ওই গলিতে পা দিলে সময় যেন পিছিয়ে যায় হু-হু করে।মহিষাসুরমর্দিনী যখন সরাসরি রেডিওতে সম্প্রচার হত, তখন রাত দুটোর সময় গাড়ি আসত রেডিও অফিস থেকে। পরে যখন রেকর্ডিং প্রচার করা শুরু হল, তখনও ওই সময়টায় রেডিয়ো অফিসে চলে যেতেন তিনি। তবে শেষদিকে আর যেতে পারতেন না।আর একবার রেডিও অফিসে যাননি তিনি। সেটা ছিল ১৯৭৬ সাল। রেডিয়ো সে বার মহিষাসুরমর্দিনী প্রচারিত হয়নি। হয়েছিল, 'দুর্গা দুর্গতিহারিণী'।করেছিলেন উত্তমকুমার।সেই প্রথম আর সেই শেষ। বাঙালী মেনে নেই নি সেই পরিবর্তন।প্রবল বিক্ষোভে ও চাপে ষষ্ঠীর সকালে আবার রেডিও বাজাতে বাধ্য হয়েছিল মহিষাসুরমর্দিনী।পরের বছরই আবার স্বমহিমায় ফিরে আসেন মহিষাসুরমর্দিনীর সর্বকালজয়ী অন্যতম রূপকার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ।

এই উপস্থাপনাটিতে যন্ত্র সঙ্গীতের একটা বিশাল ভুমিকা ছিল – পুরো অনুষ্ঠানটির উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্যে।এই সব যন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন -মুন্সিজি (সারেঙ্গী), তাঁর ভাই আলি (চেলো),খুশী মহম্মদ (হারমোনিয়াম),অবনী মুখার্জি ও তারক নাথ দে (বেহালা),সুরেন পাল (ম্যান্ডোলিন), সুজিত নাথ (গীটার), দক্ষিণা মোহন ঠাকুর (এস্রাজ), শান্তি ঘোষ (double bass),গৌর গোস্বামী ও আলোক নাথ দে (বাঁশি),কমল মল্লিক (সরোদ),শ্যামল বসু, গোবিন্দ বসু, রাধাকান্ত নন্দী (তবলা) – প্রমুখ। কিন্তু নামের এই তালিকা কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়।রাইচাদ বড়াল প্রথম দিকে নিজে বাজাতেন পিয়ানো আর অরগ্যান। এছাড়াও ছিলেন হিমাংশু বিশ্বাস,শৈলেন দাস,অনিল দাস এবং আরও অনেকে। এই সব যন্ত্রীদেরও পঙ্কজ বাবু অত্যন্ত যত্ন সহকারে সব কিছু বুঝিয়ে আর শিখিয়ে দিতেন।প্রথম দিকে তাদের বলা হয়েছিল – বীরেন ভদ্র মহাশয় যখন কিছুটা সুর দিয়ে সংস্কৃত স্তোত্র পাঠ করবেন – তখন তাঁর কণ্ঠস্বর কে অনুসরণ করে যন্ত্রগুলি বাজবে।আবার তিনি যখন বাংলা ভাষ্য পাঠ করবেন – তখন আবহে কিছু দেশীয় রাগ বাজানো হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল – অবাঙালী মুসলিম যন্ত্র শিল্পীরা সংস্কৃত আর বাংলা ভাষার পার্থক্য ঠিক ধরতে পারলেন না আর বীরেন বাবু যখন স্তোত্র পাঠ শেষ করে বাংলা ভাষ্যের অংশে এলেন – তখনও তাঁরা দেশী কোন রাগের বদলে বীরেন বাবুর কণ্ঠ কেই অনুসরন করে চললেন। ব্যাপারটি কিছুটা আকস্মিক ভাবেই ঘটল – যার জন্যে অনেকেই ঠিক প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু এতে একটি অন্য ধরণের আবহ সৃষ্টি হল, আর সেটি অনুধাবন করে বীরেন বাবুও তাঁর বাংলা ভাষ্যেও কিছুটা সুর নিয়ে এলেন – ওই যন্ত্র সঙ্গীতের সঙ্গে মিলিয়ে।একটা অন্য ধরণের আমেজ আর পরিবেশ সৃষ্টি হল আবহ সংগীত আর ভাষ্যের ধারার এই পরিবর্তনে, এবং সব মহলেই তা খুব সমাদৃত হোল। তারপর থেকে এই প্রক্রিয়াটিকেই অনুসরন করা শুরু হল – আমরা পেলাম সংস্কৃত স্ত্রোত্রের পাশাপাশি এক অসাধারন সুরেলা বাংলা ভাষ্য পাঠ যা এখন আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।আকাশবাণীতে মহিষাসুরমর্দিনীর ইতিহাস জানতে গেলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় ছিয়াশি বছর আগে – ১৯৩১ সালে। সেই সময় কলকাতা বেতার কেন্দ্রের বয়স ছিল মাত্র চার বছর – আর অনুষ্ঠান সবই প্রচারিত হত সরাসরি বা Live. অনুষ্ঠানে কিছু বৈচিত্র্য ও আকর্ষণ আনার জন্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের কিছু করা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছিল।বেতার কেন্দ্রের তখনকার অনুষ্ঠান অধিকর্তা নৃপেন মজুমদার ,বিশিষ্ট লেখক, চিত্রনাট্যকার এবং “বেতার জগত ” পত্রিকার সুচনাকার প্রেমাঙ্কুর আতরথী এবং আরও কয়েক জনের নানান ভাবনার পর ঠিক হয় – বাসন্তী দুর্গা পূজা উপলক্ষে একটি নতুন অনুষ্ঠান করা হবে মার্কণ্ডেয় চণ্ডীর ওপর ভিত্তি করে। Script রচনার দায়িত্ব পেলেন -তখনকার একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান “বেতার বিচিত্রা”র পরিচালক বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য – যিনি বানীকুমার নামেই বেশী পরিচিত। শ্রী শ্রী চণ্ডী থেকে সংকলিত কিছু শ্লোক, নিজস্ব কিছু ভাষ্য আর নিজেরই তৈরি করে দেওয়া কিছু গান নিয়ে তিনি তৈরি করলেন – এক অসাধারণ সঙ্কলন – নাম দেওয়া হল – “বসন্তেশ্বরী”।বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র আগেই চণ্ডীপাঠ করতেন পুজোর সময় কোন দুর্গাপ্রতিমার সামনে – সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দায়িত্ব নিলেন চণ্ডীপাঠ এবং ভাষ্য পাঠের। বানীকুমারের লেখা কয়েকটি গানে সুর দিলেন সে সময়ের বিশিষ্ট সঙ্গীতকার হরিশ্চন্দ্র বালী আর কিছু গানে সুর দিলেন পঙ্কজ মল্লিক। সামগ্রিক ভাবে সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন -রাইচাঁদ বড়াল। এইভাবে সবার সমবেত প্রচেষ্টায় “বসন্তেশ্বরী” সঙ্গীত আলেখ্যটি প্রচারিত হল ১৯৩১ সালে বাসন্তী দুর্গা পুজার অষ্টমী তিথিতে।এই বসন্তেশ্বরী আলেখ্যটিই পরবর্তী কালের ইতিহাস সৃষ্টি করা ” মহিষাসুরমর্দিনী ” অনুষ্ঠানের পূর্বসূরি।(এ প্রসঙ্গে অবশ্য একটি কথা জানিয়ে রাখা ভাল যে কোথাও কোথাও এই অনুষ্ঠানটির প্রচারের সাল লেখা আছে ১৯৩২ বলে)।মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানটিতে “বাজলো তোমার আলোর বেণু” গানটির সঙ্গে সঙ্গেই আরও যে একটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে – তা হোল “জাগো দুর্গা জাগো দশপ্রহরণধারিণী”। দুর্গা পুজা কাছে এলেই গানটি প্রায়ই শোনা যায় বিভিন্ন মাধ্যমে।ছোট থেকেই আমরা গানটি শ্রদ্ধেয় শিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে শুনে অভ্যস্ত।বস্তুত এখন ওই গানটির সঙ্গে দ্বিজেন বাবু প্রায় সমার্থক হয়ে গেছেন।” জাগো দুর্গা ” গান মানেই দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়।কিন্তু প্রায় ষাট বছরেরও বেশী আগেএই গানটি গাওয়ানো হতো হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কে দিয়ে।কিন্তু অন্য কাজ আর সিনেমার ব্যস্ততার কারণে তিনি বেশীদিন এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেননি।তার পর গানটি দেওয়া হয় আর একজন বিশিষ্ট শিল্পী শচীন গুপ্তকে।কিন্তু যে কোন কারণেই হোক, তিনিও বেশিদিন গাইতে পারেন নি এই গানটি। আসলে এই অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে পঙ্কজ মল্লিক মহাশয় বেশ কড়া ধাতের মানুষ ছিলেন।প্রায় এক দেড় মাস ধরে রিহার্সাল করাতেন -এবং সেই রিহার্সালে প্রত্যেক শিল্পীকেই প্রতিদিন আসতে হত,কোন কারণে বাদ দেওয়া চলত না।তাঁদের রেওয়াজ করতে হত- সমবেত ভাবে একেবারে সুদ্ধ সা রে গা মা দিয়ে শুরু করে। হয়ত এই সব কারনেই খুব ব্যস্ত শিল্পীরা সব সময়,সময় করে উঠতে পারতেন না।এরপরই এই গানের ক্ষেত্রে আসেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়।তাঁকে পঙ্কজ মল্লিক মহাশয় স্নেহভরে একটু অন্য নামে ডাকতেন। তাঁর নামের ‘দ’ আর ‘ব’ কে আলাদা আলাদা ভাবে উচ্চারন করে তিনি ডাকতেন “ইদবিজেন” বলে। দ্বিজেন বাবুর গম্ভীর গলাও ছিল এই গানের উপযুক্ত। তারপর, সেই পঞ্চাশের দশক থেকেই এ গান শুধু তাঁর জন্যেই নির্দিষ্ট হয়ে রইল। পঙ্কজ মল্লিকের স্নেহের “ইদবিজেন”এর গলায় এই গান হয়ে রইল মহালয়ার এই প্রভাতী অনুষ্ঠানের অন্যতম স্তম্ভ।১৯৩৬। এই সালটি মহিষাসুরমর্দিনী সংগীতালেখ্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য বছর।কারণ এই বছরই প্রথম এই অনুষ্ঠানের সেই চিরাচরিত নামটি সৃষ্টি হল -“মহিষাসুরমর্দিনী”।এর আগে ১৯৩১ থেকে ১৯৩৫ আমারা পেয়েছি দুটি নাম -“হংসেশ্বরী” আর “শারদীয় বন্দনা”।তাছাড়া সম্প্রচারের দিন ও সময় নিয়েও ওই কয়টি বছরে কিছু দোলায়মানতা ছিল। প্রথমে বাসন্তী দুর্গাপূজার অষ্টমী, তারপর শারদীয়া দুর্গাপূজার ষষ্ঠী, তারপর আবার মহালয়ার দিন, আবার কখনও সকাল ৬ টা,কখনও দুঘণ্টার অনুষ্ঠান আবার কখনও দেড় ঘণ্টা -এইভাবে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়ে ১৯৩৬ সালে এটি স্থায়ী ভাবে নির্দিষ্ট হোল মহালয়ার দিন ভোর ৪ টের সময় মহিষাসুরমর্দিনী নাম দিয়ে প্রচারিত হবার জন্য। এছাড়া আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও এর মধ্যে ঘটে গেছে -যুগ্ম সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন রাইচাদ বড়াল, এবং পঙ্কজ মল্লিকই হয়ে উঠেছেন এই অনুষ্ঠানের একমাত্র সঙ্গীত পরিচালক। অর্থাৎ আজকে যে অনুষ্ঠান আমরা শুনি -তার সঠিক রুপ শুরু হল ওই ১৯৩৬ সাল থেকেই – আলেখ্যটির নাম – “মহিষাসুরমর্দিনী, সঙ্গীত পরিচালক -পঙ্কজ কুমার মল্লিক, সম্প্রচারের দিন – মহালয়া, সময় – ভোর চারটে, স্থায়িত্ব – দেড় ঘণ্টা। বাণীকুমার আর বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র রয়ে গেলেন আগের মতই স্ব-মহিমায়। এরপর সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এই দীর্ঘ আশি বছরের মধ্যে আর মাত্র একটি বছর বাদ দিয়ে আর কখনও এই অনুষ্ঠানের দিন, সময় বা নাম পরিবর্তিত হয়নি।“মহিষাসুরমর্দিনী” অনুষ্ঠানটির প্রথম গান “যা চন্ডী মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী”র পরে দ্বিতীয় গানটিও আর একটি সংস্কৃত স্তোত্র।কিন্তু প্রথম গানটির পরেই ভেসে ওঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অসাধারণ কণ্ঠে অলৌকিক সেই ধারাভাষ্যের সূচনা – “আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক-মঞ্জীর।ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা ;প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমনবার্তা।আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি অসীম ছন্দে বেজে উঠে রূপলোক ও রসলোকে আনে নব ভাবমাধুরীর সঞ্জীবন। তাই আনন্দিতা শ্যামলী মাতৃকার চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীতে আবাহন।আজ চিচ্ছক্তিরূপিণী বিশ্বজননীর শারদশ্রীবিমণ্ডিতা প্রতিমা মন্দিরে মন্দিরে ধ্যানবোধিতা“।
শেষ রাতের অন্ধকার থেকে প্রথম ঊষার আলোয় উত্তরণের মধ্যে সেই পাঠ, স্তোত্র, গানের সুর আর শঙ্খধ্বনি শরৎকালের আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে গিয়ে ঘোষণা করে দেয় মায়ের আগমনবার্তা।এই অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় গানটিও প্রথম গানের মতই সংস্কৃত স্তোত্র – শ্রী শ্রী চণ্ডী থেকে নেওয়া (ঋগ্বেদ উক্ত দেবী সূক্তম নামে) -” সিংহস্থা শশিশেখরা “,গাওয়া হয়েছে সমবেত কণ্ঠে। প্রথম গান বা স্তোত্র ” যা চণ্ডী “র মতই এর সুর আর সঙ্গীত সমাহার শেষ রাত্রে পুজোর আবহকে জাগিয়ে তোলে।বর্তমানে মহিষাসুরমর্দিনীর তৃতীয় গানটি একটি বাংলা গান – যা ওই অনুষ্ঠানের সবচাইতে জনপ্রিয় দুটি গানের একটি। দুর্গা পূজা এলেই যে গান সর্বত্র ধ্বনিত হয় – তা হল্ – “বাজল তোমার আলোর বেণু”। গানের কণ্ঠ – শ্রীমতী সুপ্রীতি ঘোষের। সুপ্রীতি ঘোষ ছিলেন সে যুগের খুব জনপ্রিয় শিল্পী। রবীন্দ্রসঙ্গীত, অতুলপ্রসাদী, নজরুলগীতি, আধুনিক -সব ধরণের গানে তিনি ছিলেন পারদর্শিনী।সে সময়ের অনেক সিনেমাতেও তিনি কণ্ঠ দিয়েছিলেন।তাঁর কণ্ঠের সেই “বাজল তোমার আলোর বেণু” -গান আজও সবার মুখে মুখে ফেরে।
ছোটবেলা থেকে মহিষাসুরমর্দিনীর চণ্ডীপাঠ আর “জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিনী”র সুরে শুরু হত আমাদের দুর্গাপুজোর আনন্দ। ভোর চারটে তে ঘড়িতে এলার্ম দেওয়া থাকত, তবে দেখতাম মা তার আগেই উঠে পড়ে স্নান সেরে নিয়েছেন। বাবার ধমক খেয়ে কোনো রকম চোখ কচলে উঠে বসতেই শুরু হতো “আজ অশ্বিনের শারদ প্রাতে,,,,,,,,,,”
ছোটো বেলার মতো বাবা এখন আর আমায় জিজ্ঞাসা করেন না “কি রে কাল সকালে ডেকে দেবো তোকে??মহালয়া শুনবি তো !!” এখন বাবার জন্য মহালয়ার সকালে তর্পণ করতে হয়। এখন আমি আমার ছেলে কে জিজ্ঞাসা করি ” কি রে ডেকে দেবো? ” সেও মাথা নারিয়ে উত্তর দেয় “হ্যা” কিন্তু ঘুম চোখে মহিষাসুরমর্দিনী শুনে যাওয়ার ট্রাডিশন বয়ে চলে বংশ পরম্পরায়। একদিন হয়ত এই দিনেই আমার জন্য তর্পণ করবে আমার ছেলে কিন্তু তখনও বেতারে বেজে উঠবে শ্রী বীরেদ্র কৃষ্ণের গলা চণ্ডী পাঠ,,,,,,,,,,,,,,,,,
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইন্দ্রিয়ানামধিষ্ঠাত্রী ভূতানাং চাখিলেষু ইয়া
ভূতেষু সততং তসৈ ব্যাপ্তৈ দেব্যৈ নমো নমঃ।।
চিতিরূপেণ ইয়া কৃৎস্নমেতদ্‌ ব্যাপ্য স্থিতা জগত।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।

(তথ্যসূত্র ও শ্রী বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের ছবি: অন্তর্জাল)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 2 =