কালীপুজোয় সমার্থক আন্দুলের প্রেমিক মহারাজের কালীকীর্তন

সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী : কালীপুজো মানেই যেমন রামপ্রসাদী গান, কমলাকান্তের শ্যামাসঙ্গীত, ঠিক তেমনই অঙ্গাঙ্গী প্রেমিক মহারাজের কালীকীর্তন| প্রজন্ম পরম্পরায় প্রায় ১৪০ বছর ধরে এই ধারার সঙ্গীতকে বজায় রেখে চলেছে আন্দুল কালীকীর্তন সমিতি| নামে কীর্তন থাকলেও এই গান আদতে গাওয়া হয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আধারে। কীর্তনে যেমন খোল বাজানো হয়, কালীকীর্তনে ব্যবহার করা হয় পাখোয়াজ ও তবলা। পরম্পরা মেনে এখনও এই সঙ্গীত পরিবেশনের সময়ে পরা হয় গেরুয়া বস্ত্র, গলায় থাকে রুদ্রাক্ষের মালা, মাথায় ধারণ করা হয় জটাজুট| রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই পরিবেশিত হচ্ছে এই কালীকীর্তন|

সরস্বতী নদীর ধার ঘেঁষে মাশিলা যাওয়ার পথে আন্দুল দক্ষিণ পাড়ায় ‘প্রেমিক ভবন’| কালীকীর্তন ও সংস্কৃতি চর্চার পীঠস্থান, আখড়া| প্রায় ১৭৪ বছর আগে এখানে জন্মগ্রহণ করেন মহেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। জানা যায়, মাত্র ২২ বছর বয়সেই কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কবিরত্ন’ উপাধি পান। আন্দুলরাজের সভাকবিও ছিলেন বলে জানা যায়| পরে আন্দুল স্কুলের প্রধান সংস্কৃত পণ্ডিতের দায়িত্বভার নেন তিনি। লোকশ্রুতি, মহেন্দ্রনাথ একদিকে যেমন ছিলেন ঈশ্বর সাধনায় ব্রতী, আবার ছিলেন ঘোরতর সংসারীও। সমাজসেবা, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে সংস্কৃতি চর্চা, সবেতেই ছিলেন সমান উৎসাহী| তিনিই রচনা করেন কালীকীর্তন। ভক্তরাই তাঁর নামকরণ করেছিলেন ‘প্রেমিক মহারাজ’ ।

কথিত, বহু সাধক এসেছেন প্রেমিক ভবনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে শোনা যায়, স্বামী বিবেকানন্দও এসেছিলেন এখানে| যে তক্তপোষে বসেছিলেন স্বামীজি, তা আজও সংরক্ষিত আছে। স্থানীয় ইতিহাস গবেষক তথা “আন্দুল-মৌড়ির ইতিহাসের রূপরেখা” বইয়ের রচয়িতা অমিত দাশগুপ্ত বলেন, ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সমসাময়িক ছিলেন প্রেমিক মহারাজ| তিনি স্বামীজির বাবা বিশ্বনাথ দত্ত ও মা ভুবনেশ্বরী দেবীর গুরুদেব ছিলেন| অমিত বাবু এও বলেন, ধ্রুপদাঙ্গের কালীকীর্তনের উল্লেখ একমাত্র প্রেমিক মহারাজের সঙ্গীতেই পাওয়া যায় এবং আজও ধারাবাহিকভাবে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে পরিবেশিত হয়ে চলেছে প্রেমিক মহারাজের কালীকীর্তন|

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।