মুদ্রা উৎসব ২০১৭

রাজকুমার দাস : মানুষজনের শখ কত কি না থাকে।কারুর বই পড়া, কারুর বা ডাক টিকিট-এর সংগ্রহ আবার কারুর আছে অটোগ্রাফ-এর সংগ্রহ।প্রতিবছরের মতন এ বছরও গত ২২ থেকে ২৪-শে ডিসেম্বর বালিগঞ্জ হালদিরাম-এ অনুষ্ঠিত হয় গেল “মুদ্রা উৎসব ২০১৭”।

অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম-এর এডুকেশন অফিসার সায়ান ভট্টাচার্য , ডিরেক্টর রাজেশ পুরোহিত এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অফ কোলকাতা-র সেক্রেটারি সত্যব্রত চক্রবর্তী ।

তিনদিন ব্যাপি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় প্রাক্তন পুলিশ কমিশানার সন্ধি মুখার্জি ও মিনিস্ট্রী অফ কালচার-এর প্রাক্তন সেক্রেটারি জহর সরকার-কে। নিউমিসমেটিক সোসাইটি অফ ক্যালকাটা দ্বারা আয়োজিত এই প্রদর্শনীর মূল বিষয় ছিল ভারতীয় মুদ্রার বিবর্তন।
প্রদর্শনীর প্রথম দিন লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় সোমনাথ বসু কে এবং অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সেলেন্স-এর পুরস্কার দেওয়া হয় অনিল চাঁদ জোইন-কে।

মূলতঃ এখানে ৬০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে আজকের দিন অবধি কি ভাবে মুদ্রা অদল-বদল হয়ছে এবং কি কি ধরণের মুদ্রা বেড়িয়েছে তার ওপরএই প্রদর্শন হয়েছে। এখানে যেমন প্রাচীন ভারতীয় মুদ্রার সংগ্রহ দেখা গিয়েছে অনুপ মিত্র-র সংগ্রহে ঠিক তেমনি বিনয় কুণ্ডু ফুটিয়ে তুলেছেন ঠিক কেমন ভাবে মুদ্রার হরফ পালটেছে সময় অনুযায়ী।

এই সবের মাঝেই উজ্জ্বল সাহার গুপ্ত যুগের স্বর্ণ মুদ্রা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বহু দর্শকের এবং শুধু তাই নয় গুপ্তযুগের অবসানের পর তাদের কেমন মুদ্রা বেরত তারও একটি প্রদর্শন করেছেন স্মরণ দাস।

এ ছাড়াও গুপ্তআমল এর মুদ্রা যখন চলে ঠিক সেই সময় থেকেই আমাদের বাংলার কিছু ধরণের মুদ্রা প্রচলিত হতে শুরু করে এবং এমন এক ধরনের মুদ্রার প্রদর্শন করেন এস.কে.বোস।এ ছাড়াও জাইন্তিয়াপুর ও কোচবিহার এর মুদ্রা প্রদর্শন করেন শ্রী হরবিন্দার সাগু এবং ত্রিপুরার মাণিক্য বংশের মুদ্রার প্রদর্শন দেখা গিয়েছে অনুপ মিত্রর সৌজন্যে। সৌমিত্র বসুর মুঘল যুগের মুদ্রা প্রদর্শনী সত্যি অনবদ্য ছিল এবং সোমনাথ বসুর ভারতের ভিবিন্ন আঞ্চলিক মুদ্রার প্রদর্শনও ছিল চমকদার। গুপ্তযুগ ছাড়াও অনেকসময় অনেক মুদ্রা প্রকাশ পেয়েছিল স্বর্ণ রূপে আর ঠিক তেমনি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার সময়কার উইলিয়াম এর মোহর থেকে শুরু করে পঞ্চম জর্জ-এর ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকার বিশাল একটি প্রদর্শনী করেন বসন্ত কুমার রাথি। তিনি আবার আমাদের “১ টাকার মুদ্রার- ১০০ বছরের বিবর্তন”-এর ওপরেও একটি প্রদর্শন করেন। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে ৩০-শে নভেম্বর ১৯১৭ সালে ভারতে প্রথম এক টাকার নোট আসে আরে তারই ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই প্রদর্শনী করেন তিনি।

শুধু তাই নয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ভারতীয় ব্যাঙ্কনোট-এর বিবর্তন এবং তার ব্যাবহার-এর ওপর আয়োজন করা হয়েছিল একটি সেমিনার , যেখানে বক্তা ছিলেন কিংবদন্তী সংগ্রহকারী রেজওয়ান রাজাক । তিনি মূলত ভারতীয় সমস্ত ধরনের নোটের ওপর দর্শকদের সচেতন করেন। এই সমস্ত ছাড়াও সাধারণ মানুষজনেরে জাল নোট ও কয়েন-এর ওপর সচেতনতা বাড়ানোর জন্য একটি আসল এবং নকল নোট-এর এবং টোকেন কয়েন-এর ওপর প্রদর্শন করেন রবিশঙ্কর শর্মা এবং স্বাধীন ভারতবর্ষের স্মারক মুদ্রার ওপর প্রদর্শন করেন কুনাল চ্যাটার্জি|

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 4 =