রথারূঢ় গচ্ছন্ পথি বলিত ভূদেব পটলৈঃ স্তুতিপ্রাদুর্ভাবং প্রতিপদমুপাকর্ণ্য সদয়ঃ

সুরেন্দ্রৈরা রাধ্যঃ শ্রুতিগণশিখা বেদচরিতৈ
জগন্নাথ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।

তালধবজ, দর্প দলন ও নান্দীঘোষ রথে বলভদ্র
সুভদ্রা ও জগন্নাথ-এর আরোহনের যে উৎসব উড়িষ্যা তথা সারা পূর্ব ভারতে বিখ্যাত তার সমাজতাত্ত্বিক ইতিহাস কিন্তু বড় জটিল। উড়িষ্যার শবর জনজাতির আরাধ্য দেবতা নীলমাধবের ওপর বিষ্ণুত্ব আরোপনের মধ্যেও আজ না আলোচনা করাই বাঞ্চনীয়।

আজ বরং শহর কলকাতার কিছু প্রাচীন রথ যাত্রার কথা বলা যাক।

রথযাত্রার বনেদিয়ানা নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যে নামটা চলে আসে সেটা হলো রানী রাসমণি প্রতিষ্ঠিত জানবাজার রাজবাড়ীর রথ। রানী রাসমণি নিজে অত্যন্ত অনাড়ম্বর জীবন যাপন করলেও উৎসবের জন্য ছিলেন মুক্ত হস্ত। শোনা যায় গঙ্গায় মাছ ধরা উড়িয়া জেলেদের আগ্রহেই নাকি রানীর মাথায় রথ যাত্রার পরিকল্পনা আসে। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ। রানীর জামাতা মথুর বাবুর তত্ত্বাবধানে তৈরি হয় বিশাল রূপোর রথ। তখনকার দিনেই এই রাত তৈরী করতে খরচ পড়েছিল এক লাখ টাকারও বেশি।

বনেদী রথের তালিকায় এর পরেই আসে মার্বেল প্যালেস বা মল্লিক বাড়ির রথযাত্রার কথা। সাবেকিয়ানায় উজ্জ্বল এই বাড়ির রথ এখন আর রাজপথ দিয়ে টানা হয় না তবে সুসজ্জিত রথ বিকালে বাড়ির প্রাঙ্গনে অবস্থান করে এবং তাকে ঘিরে একটি ছোট্ট মেলাও বসে।

বনেদিয়ানাতে পিছিয়ে নেই ধর বাড়ি বা চৌধুরী বাড়ির রথ ও।

কিন্তু যে জায়গাটির কথা উল্লেখ না করলে কলকাতার রথযাত্রা অসম্পূর্ন থেকে যাবে তা হলো অধুনা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার বা নেবুতলা অঞ্চলের ছোট বড় মিলিয়ে অসংখ্য রথ যাত্রার কথা। বাণিজ্য নগরী সপ্তগ্রামের সূর্য অস্তমিত হবার পর এই বণিক সম্প্রদায় পাড়ি জমান কলকাতার উদ্দেশ্যে। বণিক সম্প্রদায়দের মধ্যে সুবর্ন বণিক সম্প্রদায়রাই আয়োজন করেন এই রথ যাত্রা উৎসবের। অসংখ্য ছোট বড় পারিবারিক রথযাত্রায় মুখরিত হয়ে ওঠে নেবুতলা অঞ্চল।

সবশেষে বলি বৈভবে ও পৃষ্ঠ পোষকতায় ইসকনের রথযাত্রাও আজকে কলকাতার বুকে উৎসবের বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।।।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 + twelve =