সঠিক সময় দিতে আজও অক্লান্ত শতবর্ষ ছুঁইছুঁই হাওড়ার ‘বিগ বেন’

সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী: হাওড়া স্টেশনে এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়, পরিচিত ও খ্যাতনামা ল্যান্ডমার্ক। ১৯২৬ সাল থেকে কত প্রেম, মান-অভিমান, সম্পর্ক ভাঙা-গড়া, আরও কত শত সহস্র অজস্র ঘটনার নীরব সাক্ষী। হাওড়া স্টেশনের ‘বিগ বেন’, থুড়ি, বড় ঘড়ি।

প্রাক-মোবাইল যুগে যাত্রীরা পরিচিতদের খুঁজে নিতেন এই বড় ঘড়ির নীচে দেখা করে। এমনকি এখনও জিপিএসের যুগেও যাত্রীদের কাছে এর অবদান অনস্বীকার্য। শুধু হাওড়ার ‘বড় ঘড়ি’ বললেই মিটিং লোকেশন চিনে নেন তাঁরা। এককথায় অলিখিত অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট।

পূর্ব রেল সূত্রে জানা যায়, ১৯২৬ সালে এই ঘড়িটি হাওড়া স্টেশনের পুরনো কমপ্লেক্সের শতাব্দী প্রাচীন (১১৪ বছর) ভবনে বসানো হয়। পিঠোপিঠি অবস্থিত এই ঘড়িটির একটি মুখ আছে ১ থেকে ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে এবং অন্যটি ৯ থেকে ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মমুখী। লোহার মজবুত ফ্রেমের ওপর স্থাপিত এবং স্টেশন ম্যানেজারের অফিসের পাশের দেওয়ালের সঙ্গে সংযুক্ত এই ঘড়ি ‘জেন্টস’ নির্মিত। লন্ডনের বিখ্যাত বিগ বেন ঘড়িও বিলিতি ঘড়িবাবু এডওয়ার্ড জন ডেন্টের এই সংস্থারই তৈরি।

আগে বিদ্যুৎ চালিত যান্ত্রিক হাওড়ার এই বড় ঘড়িটিতে একটি দূরনিয়ন্ত্রক পালসার যন্ত্রের মাধ্যমে দম দেওয়া হতো এবং সময়ের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা হতো। পরবর্তীকালে বিদ্যুৎ পরিবাহী তারে সমস্যা তৈরি হয়। এখন আর এই ঘড়িতে চাবি ঘুরিয়ে দম দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তার ব্যবস্থা করা আছে ঘড়ির ভেতরেই।

জানা যায়, এই ঘড়ির ডায়ালের ব্যাস ৩ ফুট ৯ ইঞ্চি। ছোট কাঁটা অর্থাৎ ঘন্টার কাঁটা দেড় ফুট বা ১৮ ইঞ্চি লম্বা। আর বড় কাঁটা বা মিনিটের কাঁটার দৈর্ঘ্য দু ফুট অর্থাৎ ২৪ ইঞ্চি। ১৯৭৫ সালে ঘড়িটি মেকানিক্যাল থেকে ইলেকট্রো মেকানিক্যালে রূপান্তরিত করা হয়। তার পরে রিচার্জেবল ব্যাটারির সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় ঘড়িটি।

বছর ন’য়েক আগে ২০১০ নাগাদ একবার কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হলেও দ্রুত তা মেরামত করা হয়। ঘড়িটি স্থাপনের ৯৩ বছর পরেও এতদিন ধরে অক্লান্তভাবে সঠিক সময় দিয়ে চলেছে আজও। দেখা যায়, এখনও অনেক যাত্রী নিজেদের ঘড়ির সময় বড় ঘড়ির সঙ্গে মিলিয়ে নেন। পাশাপাশি ৯ দশকের বেশি সময় ধরে অসংখ্য মানুষের মিলনস্থল হিসেবেও স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাওড়া স্টেশনের ঐতিহ্যবাহী এই ‘বিগ বেন’।

তথ্যসূত্র ও ছবি সৌজন্যে: পূর্ব রেল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।